কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে মাইজদীতে কালো পতাকা মিছিল।

আবদুর রহিম, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক  মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীর মাইজদীতে নোয়াখালীর সকল সাংবাদিকরা কালো পতাকা মিছিল করেছে।

পহেলা মার্চ সোমবার সকাল ১০ টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কালো পতাকা মিছিল ও তিন দিনের জন্য কালো ব্যাচ ধারণের মধ্যে দিয়ে প্রতিবাদ জানান জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা। তবে হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। 

নিহত মুজাক্কিরের ভাই নূর উদ্দিন জানান, মুজাক্কির হত্যার ঘটনায় আমার বাবা বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। আমরা যেহেতু ওইদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না তাই কাউকে না দেখার কারণে মামলায় অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ওইদিন রাতে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। আমরা পিবিআই টিমের কাছে আশাবাদী তারা দ্রুত মুজাক্কির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করবেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা মামলটি গভীরভাবে তদন্ত করছি। ঘটনাস্থলসহ প্রতিটি বিষয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয় নিয়ে বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে বসুরহাট পৌরসভার ময়র মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষের মুখে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মুজাক্কিরসহ ৭-৮ জন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুজাক্কিরকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

মুজাক্কির অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারের নোয়াখালী প্রতিনিধি ছিলেন। সংঘর্ষ, গুলির ঘটনা পুলিশ বাদী হয়ে দুটি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে পুলিশের মামলা দুটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবার দায়ের করা মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। বাদলের দায়ের করা মামলাটি কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

ফেসবুকে কমেন্ট করুন -আপনার মতামত দিন