তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘কামরান ভাই’

মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ‘কামরান ভাই’ বলে ডাকলে খুশি হতেন। জনসাধারণের সঙ্গে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তাই পরিচ্ছন্নকর্মী থেকে শুরু করে বিত্তবান, সবার কাছে তিনি ছিলেন প্রিয়। তার বাসার দরজা সব ধর্ম-বর্ণ আর পেশার মানুষের জন্য খোলা থাকত। তিনি সবাইকে কাছে টেনে নিতেন। সুখে আর দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার প্রিয় ‘কামরান ভাই’।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি ছিলেন সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার। এরপর পৌরসভার চেয়ারম্যান হন। চেয়ারম্যান থেকে টানা দুটি নির্বাচনে সিটি মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর দুই নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজিত হলেও তিনি ‘কামরান ভাই’ হিসেবে মানুষের পাশে ছিলেন। সিলেটের উন্নয়নের তার আন্তরিকতার কমতি ছিল না।

সর্বশেষ চতুর্থ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় এক সাক্ষাৎকারে কামরান বলেছিলেন, ‘‘যে মানুষ জনতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা গড়ে তুলতে পারেন না, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের কাছে যেতে পারেন না, তৃণমূল থেকে সর্বস্তরের মানুষের আবেগ-অনুভূতি বুঝতে পারেন না, তার দ্বারা উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর নগরের উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, তা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ভালো করে জানা আছে।’’

বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আওয়ামী লীগের সিলেট মহানগর কমিটির সভাপতি ছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে টানা ১৪ বছর নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ গত বছরের কাউন্সিলে তিনি বাদ পড়েন। অবশ্য তখন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। জনসাধারণের পাশাপাশি দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিল তার সখ্যতা। করোনা সংকটকালেও তিনি ছিলেন জনতার পাশে। আর এ থেকে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন তিনি।

গত ৫ জুন কামরানের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পরদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। ৭ জুন হাসপাতালে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার শরীরে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে তিনি চিরনিন্দ্রায় চলে যান।

তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী আসমা কামরান, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে এবং দুই নাতনী রেখে গেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে জানাজা এবং দাফন আয়োজন করা যায়, এ নিয়ে সকাল ৯টায় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, হাসপাতালে প্রক্রিয়া শেষ করে কামরানের মরদেহ সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে।

কামরান নগরের ছড়ারপাড় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লির দায়িত্বে ছিলেন। তার ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলুর বরাত দিয়ে আসাদ উদ্দিন বলেন, ছড়ারপার জামে মসজিদে একটি জানাজা এবং মানিকপীর (রহ.) সিটি কবরস্থানে দাফনের বিষয়ে ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘‘সকাল ৯টায় মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বসবো। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে দাফন করা যায়, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’

গত ২৭ মে কামরানের স্ত্রী আসমা কামরানেরও করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি অনেকটা সুস্থ রয়েছেন এবং বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ফেসবুকে কমেন্ট করুন -আপনার মতামত দিন