সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে, প্রয়োজন সচেতনতা- নোয়াখালীর সময়।

এম.এ রহিমঃ করোনা মহামারির পাশাপাশি দেশের মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত। বন্যার এ সময়টাতে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু জেলায় সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

দেশের বেশ কিছু বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে পানি জমে যাবার কারণে সাপ তার আবাস হারিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক সময় সাপ চলে আসে মানুষের বসত ভিটায়। ফলে সামান্য অসাবধানতার ফলে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। আমাদের সচেতনতাই বাঁচাতে পারে মানুষ ও সাপের জীবন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ গবেষণায় দেখা যায়, বছরে ৭ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার এবং মারা যায় ৬ হাজার মানুষ। অধিকাংশ সাপের কামড়ের ঘটনা বন্যাকালে ঘটে।

গতবারের তুলনায় এবার সাপে কামড়ানোর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। এ বছর অধিকাংশ রাসেল ভাইপারের কামড়, পাশাপাশি গোখরা সাপের কামড়ানোর ঘটনাও ঘটছে।

চারিদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সাপের থাকার গর্ত এবং ইঁদুরের গর্তগুলো পানিতে ভরাট হয়ে গেছে। তাই সাপ বর্ষাকালে আবাস এবং খাবারের খোঁজে মানুষের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে মাঝে মাঝে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

সর্তকতা অবলম্বন, বাড়ির আশেপাশে যেকোনো প্রকার ছোট-বড় গর্ত থাকলে তা বন্ধ করে দিতে হবে। বাড়ি ঘরের আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। সাপ নিরিবিলি স্থান পেলে সেখানে আশ্রয় নিতে পারে, তাই ঘরের মধ্যে জিনিসপত্র মাটি থেকে একটু উঁচুতে রাখতে হবে। ঘরে যেসব স্থানে আমরা ধান-চাল রাখি, সেগুলো খাবার জন্য ইঁদুর চলে আসে। ইঁদুর শিকারের লোভে সাপও ঘরের মধ্যে চলে আসে। সুতরাং বসতভিটা ইঁদুর এবং ব্যাঙ মুক্ত রাখতে হবে। হাড়ি-পাতিল কিংবা মাটির কলস জাতীয় জিনিস খোলা না রেখে ঢাকনা ব্যবহার করতে হবে। রাতে শোবার সময় মশারি ভালো করে টাঙিয়ে বিছানার সাথে গুঁজে দিয়ে ঘুমাতে হবে। রাতের বেলা টর্চ লাইট নিয়ে সাবধানে দেখেশুনে চলাফেরা করতে হবে।

এখন প্রচুর গরম পড়েছে। সাপ খুব বেশি গরম এবং ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না, তাই বাইরে বের হয়ে আসে। বর্ষাকালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে, ফলে মানুষ রাতের বেলা অন্ধকারে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার সময় টর্চ লাইট কিংবা আলো দিয়ে দেখে শুনে মাছ ধরতে হবে। এরপরেও যদি কাউকে সাপে কামড়ায় তাকে যত দ্রুত সম্ভব জেলা সদর হাসপাতাল অথবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ভুল করেও কোন ওঝার কাছে নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না।

সাপের কামড়ে অধিকাংশ মানুষ মারা যায় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল যেতে সময় ব্যয় করে। বিষাক্ত সাপে কামড় দিলে রোগীকে কীভাবে হাসপাতালে নিতে হবে, এই বিষয়গুলোও গণমাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে সাপে কামড়ানো রোগীকে সেবা দেওয়ার জন্য ট্রেইন্ড চিকিৎসক এবং এন্টিভেনম থাকতে হবে। বন্যার আগেই আমাদের সাপে কামড়ানো বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।